Posts

Showing posts from April, 2026

সুলাইমান (আঃ) নবীর রাজত্ব, জিন ও পশু-পাখির ভাষা, বিলকিসের সিংহাসন, বাইতুল মুকাদ্দাস নির্মাণ।

Image
  বিশ্বসম্রাট হযরত সুলাইমান (আঃ): জিন, বায়ু ও পশু-পাখির ভাষা বোঝার অলৌকিক ইতিহাস মানব ইতিহাসের পাতায় হযরত সুলাইমান (আঃ) হলেন এমন একজন নবী যাঁকে আল্লাহ নবুওয়াতের পাশাপাশি পৃথিবীর একচ্ছত্র আধিপত্য দান করেছিলেন। তাঁর শাসন কেবল মানুষের ওপর নয়, বরং জিন, বায়ু এবং পশু-পাখির ওপরও বিস্তৃত ছিল। ১. নবুওয়াত ও অতুলনীয় রাজত্ব লাভ হযরত সুলাইমান (আঃ) তাঁর পিতা দাউদ (আঃ)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়ে নবুওয়াত ও রাজত্ব লাভ করেন। তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন, "হে আমার পালনকর্তা! আমাকে এমন এক সাম্রাজ্য দিন যা আমার পর আর কেউ পাবে না"। আল্লাহ তাঁর সেই দোয়া কবুল করেন এবং তাঁকে অভূতপূর্ব ক্ষমতা দান করেন। ২. বায়ু ও জিন জাতির ওপর নিয়ন্ত্রণ সুলাইমান (আঃ)-এর জন্য আল্লাহ বাতাসকে অনুগত করে দিয়েছিলেন। তিনি বাতাসের পিঠে চড়ে এক মাসের পথ মাত্র কয়েক ঘণ্টায় পাড়ি দিতে পারতেন। এছাড়াও বিশাল এক জিন বাহিনী তাঁর নির্দেশে কাজ করত। এই জিনেরা তাঁর জন্য সমুদ্রের তলদেশ থেকে মণি-মুক্তা আহরণ করত এবং বড় বড় দালান ও স্থাপনা নির্মাণ করত। ৩. পশু-পাখির ভাষা ও হুদহুদ পাখির গল্প পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে যে, সুলাইমান (আঃ) পশু-পাখির ভাষা ব...

দাউদ ও জালুত, আসমানি কিতাব জবুর, হযরত দাউদ (আঃ)-এর অলৌকিক কণ্ঠ, নবী ও বাদশাহ।

Image
  নবী ও সম্রাট হযরত দাউদ (আঃ): অলৌকিক কণ্ঠ এবং এক মহান বাদশাহর ইতিহাস বনী ইসরাইল জাতির ইতিহাসে হযরত দাউদ (আঃ) ছিলেন একাধারে একজন মহান নবী এবং অত্যন্ত শক্তিশালী ও ন্যায়পরায়ণ শাসক। আল্লাহ তাঁকে যেমন রাজত্ব দান করেছিলেন, তেমনি দান করেছিলেন এমন এক সুমধুর কণ্ঠ যা শুনলে থমকে যেত প্রকৃতির গতি। ১. জালুত বধ ও বীরত্বের সূচনা দাউদ (আঃ) যখন একদম তরুণ ছিলেন, তখন বনী ইসরাইলের রাজা তালুত জালুতের বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন। জালুত ছিল এক দানবীয় শক্তির অধিকারী যোদ্ধা। দাউদ (আঃ) তাঁর সাধারণ একটি পাথর ছুঁড়ে মারার যন্ত্র (ফ্লিং) দিয়ে জালুতকে কপালে আঘাত করেন এবং তাকে হত্যা করেন। এই বীরত্বের মাধ্যমেই তিনি বনী ইসরাইলের নায়ক হয়ে ওঠেন। ২. নবুওয়াত ও আসমানি কিতাব 'জবুর' লাভ রাজা তালুতের মৃত্যুর পর আল্লাহ দাউদ (আঃ)-কে নবুওয়াত এবং রাজত্ব উভয়ই দান করেন। তাঁর ওপর নাজিল হয় দ্বিতীয় আসমানি কিতাব ‘জবুর’ । যখন তিনি জবুর পাঠ করতেন, তখন বাতাসের গতি থেমে যেত, পাহাড়গুলো তাঁর সাথে তাসবিহ পাঠ করত এবং আকাশের পাখিগুলো ডানা গুটিয়ে তাঁর চারপাশ ঘিরে বসত। ৩. অলৌকিক মুজিজা: লোহা নরম হওয়া দাউদ (আঃ)-এর অন্যতম বড় মুজিজা...

বনী ইসরাইলের ইতিহাস, তালুত ও জালুতের যুদ্ধ, দাউদ (আঃ) ও জালুত, ইসলামের ইতিহাস, শামউইল নবীর দোয়া।

Image
  বনী ইসরাইলের পথপ্রদর্শক হযরত শামউইল (আঃ): তালুত ও জালুতের যুদ্ধের পটভূমি হযরত ইউশা (আঃ)-এর ইন্তেকালের পর বনী ইসরাইল জাতি আবার পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। তারা আল্লাহর কিতাব ভুলে যায় এবং মূর্তিপূজায় লিপ্ত হয়। ফলে আল্লাহ তাদের ওপর আমালেকাইটদের (জালুতের বাহিনী) বিজয় দান করেন। এই অন্ধকার সময়ে বনী ইসরাইলের ত্রাতা হিসেবে আল্লাহ পাঠিয়েছিলেন হযরত শামউইল (আঃ)-কে। ১. জন্ম ও নবুওয়াত লাভ হযরত শামউইল (আঃ) এমন এক সময়ে জন্মগ্রহণ করেন যখন বনী ইসরাইল চরম লাঞ্ছনার শিকার। তাঁর মায়ের অনেক দিনের কান্নাকাটি ও দোয়ার ফসল ছিলেন তিনি। হিব্রু ভাষায় 'শামউইল' শব্দের অর্থ হলো 'আল্লাহর কাছে চাওয়া'। বড় হয়ে তিনি নবুওয়াত লাভ করেন এবং তাঁর জাতিকে আবার এক আল্লাহর পথে ফিরে আসার ডাক দেন। ২. হারানো 'তাবুত' ও বনী ইসরাইলের করুণ দশা বনী ইসরাইলের কাছে একটি পবিত্র সিন্দুক ছিল যার নাম 'তাবুতে সাকিনা'। আমালেকাইটরা সেই সিন্দুকটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সিন্দুকটি হারিয়ে বনী ইসরাইল মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং যুদ্ধে একের পর এক পরাজিত হতে থাকে। তারা হযরত শামউইল (আঃ)-এর কাছে এসে দাবি জানায়, "আমাদের জন্য একজন রাজা নিযু...

জেরুজালেম বিজয়, ইউশা ইবনে নূন ও মুসা আঃ, সূর্যের গতি থমকে যাওয়া, বনী ইসরাইলের ইতিহাস।

Image
   বিজেতা হযরত ইউশা ইবনে নূন (আঃ): জেরুজালেম বিজয় ও সূর্যের গতি থমকে যাওয়ার ইতিহাস বনী ইসরাইল জাতির ইতিহাসে হযরত মুসা (আঃ)-এর পর যিনি তাঁদের অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ ৪০ বছরের মরুভূমি জীবনের অবসান ঘটিয়েছিলেন, তিনি হলেন হযরত ইউশা ইবনে নূন (আঃ)। তিনি ছিলেন মুসা (আঃ)-এর প্রিয় শিষ্য এবং পরবর্তী খলিফা। ১. মুসা (আঃ)-এর শিষ্যত্ব ও পরিচিতি পবিত্র কুরআনে খিজির (আঃ)-এর সাথে মুসা (আঃ)-এর সফরের বর্ণনায় যে যুবকের উল্লেখ আছে, তিনি হলেন ইউশা ইবনে নূন। তিনি মুসা (আঃ)-এর খাদেম এবং যোগ্য সহচর হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। মুসা ও হারুন (আঃ)-এর ইন্তেকালের পর আল্লাহ তাঁকে নবুওয়াত দান করেন এবং বনী ইসরাইলের নেতৃত্বের দায়িত্ব দেন। ২. জেরুজালেম অভিযানের সূচনা মুসা (আঃ)-এর জীবদ্দশায় বনী ইসরাইল জাতি অবাধ্যতার কারণে জেরুজালেমে প্রবেশ করতে পারেনি এবং সিনাই মরুভূমিতে ৪০ বছর যাযাবর জীবন কাটাতে বাধ্য হয়েছিল। ইউশা (আঃ) এই প্রজন্মকে ঈমানি শক্তিতে বলীয়ান করেন এবং তাঁদের নিয়ে জেরুজালেমের (বাইতুল মুকাদ্দাস) দিকে অভিযান শুরু করেন। ৩. অলৌকিক ঘটনা: সূর্যের গতি থমকে যাওয়া ইউশা (আঃ)-এর জীবনের সবচেয়ে বড়...

মুসা ও হারুন নবীর কাহিনী, বনী ইসরাইলের ইতিহাস, ইসলামের প্রথম মুবাল্লিগ, হারুন (আঃ) এর অলৌকিক ক্ষমতা।

Image
  অবিচল সহযোগী হযরত হারুন (আঃ): মুসা (আঃ)-এর সহযোদ্ধা ও বনী ইসরাইলের মহান নেতার জীবনী পবিত্র কুরআনে হযরত মুসা (আঃ)-এর আলোচনার সাথে যাঁর নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে, তিনি হলেন তাঁর বড় ভাই হযরত হারুন (আঃ)। তিনি কেবল মুসা (আঃ)-এর ভাই-ই ছিলেন না, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত একজন মহান নবী এবং মুসা (আঃ)-এর দাওয়াতের প্রধান সহায়ক ছিলেন। ১. নবুওয়াত লাভ ও মুসা (আঃ)-এর দোয়া হযরত মুসা (আঃ) যখন তূর পাহাড়ে নবুওয়াত লাভ করেন এবং তাঁকে ফেরাউনের কাছে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, তখন তিনি আল্লাহর কাছে একটি বিশেষ দোয়া করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "হে আমার পালনকর্তা! আমার ভাই হারুনকে আমার সহযোগী করে দিন, কারণ সে আমার চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্টভাষী।" আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন এবং হারুন (আঃ)-কেও নবুওয়াত দান করেন। ২. ফেরাউনের দরবারে সত্যের ঘোষণা ফেরাউন ছিল সমসাময়িক বিশ্বের সবচেয়ে প্রতাপশালী ও জালিম শাসক। মুসা (আঃ) এবং হারুন (আঃ) একত্রে ফেরাউনের দরবারে গিয়ে নির্ভীক চিত্তে এক আল্লাহর দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছিলেন। হারুন (আঃ)-এর মিষ্টভাষিতা এবং চমৎকার বাচনভঙ্গি বনী ইসরাইল ও সাধারণ মানুষের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ৩....

মুসা ও ফেরাউন, নীল নদে লোহিত সাগর পাড়ি, কালিমুল্লাহ, বনী ইসরাইলের ইতিহাস।

Image
  কালিমুল্লাহ হযরত মুসা (আঃ): ফেরাউনের পতন ও এক মহাকাব্যিক সংগ্রামের ইতিহাস মানব ইতিহাসের পাতায় যে ক’জন নবী জালিম শাসকের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে হযরত মুসা (আঃ)-এর নাম সবার উপরে। তিনি ছিলেন আল্লাহর এমন এক নবী, যাঁর সাথে আল্লাহ সরাসরি কথা বলতেন, তাই তাঁকে বলা হয় ‘কালিমুল্লাহ’ । ১. জন্ম ও সিন্দুকে ভাসিয়ে দেওয়া মিশরের অত্যাচারী শাসক ফেরাউন যখন স্বপ্ন দেখল যে বনী ইসরাইল বংশের এক পুত্রসন্তান তার রাজত্ব ধ্বংস করবে, তখন সে নির্দেশ দিল সব নবজাতক পুত্রসন্তানকে হত্যা করতে। সেই ভয়াবহ সময়ে মুসা (আঃ) জন্মগ্রহণ করেন। আল্লাহর নির্দেশে তাঁর মা তাঁকে একটি সিন্দুকে ভরে নীল নদে ভাসিয়ে দেন। ভাগ্যের এক অলৌকিক লিখন অনুসারে সেই সিন্দুক গিয়ে পৌঁছায় খোদ ফেরাউনের ঘাটে। ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়া (আঃ) তাঁকে দত্তক নেন এবং শত্রু ফেরাউনের ঘরেই মুসা (আঃ) লালিত-পালিত হন। ২. মাদইয়ান যাত্রা ও নবুওয়াত লাভ এক অনিচ্ছাকৃত ঘটনায় একজন কিবতীকে আঘাত করার পর মুসা (আঃ) মিশর ত্যাগ করে মাদইয়ানে চলে যান। সেখানে তিনি হযরত শুয়াইব (আঃ)-এর কাছে ১০ বছর অবস্থান করেন। পরবর্তীতে ফেরার পথে ‘তুর’ পাহাড়ে তিনি প্রথম আল্ল...

মাদইয়ান জাতির ধ্বংসের ইতিহাস, ওজনে কম দেওয়ার পরিণাম, খতিবুল আম্বিয়া, ইসলামের ইতিহাস।

Image
  খতিবুল আম্বিয়া হযরত শুয়াইব (আঃ): মাদইয়ান জাতির উত্থান ও পতনের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস ইসলামের ইতিহাসে যে ক’জন নবী তাঁদের চমৎকার বাকপটুতা এবং যুক্তিনির্ভর দাওয়াতের জন্য পরিচিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে হযরত শুয়াইব (আঃ) অন্যতম। সুন্দরভাবে কথা বলার দক্ষতার কারণে তাঁকে ‘খতিবুল আম্বিয়া’ বা নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বক্তা বলা হয়। ১. মাদইয়ান জাতি ও তাদের ভৌগোলিক পরিচয় হযরত শুয়াইব (আঃ) মাদইয়ান নামক জনপদে প্রেরিত হয়েছিলেন। মাদইয়ান ছিল লোহিত সাগরের উপকূলে সিরিয়া এবং হেজাজের মধ্যবর্তী একটি অঞ্চল। এই জাতিটি ব্যবসায়িকভাবে অত্যন্ত উন্নত ছিল, কিন্তু তাদের মধ্যে শিরক এবং অনৈতিকতার চরম বাড়াবাড়ি ছিল। ২. মাদইয়ান জাতির প্রধান অপরাধ এই জাতির প্রধান সমস্যা ছিল দুটি। প্রথমত, তারা আল্লাহর একত্ববাদ ত্যাগ করে 'আইকা' নামক একটি গাছের পূজা করত। দ্বিতীয়ত, ব্যবসায়িক লেনদেনে তারা ছিল চরম দুর্নীতিবাজ। তারা মাপে এবং ওজনে কম দিত এবং মানুষের সম্পদ কেড়ে নিত। হযরত শুয়াইব (আঃ) তাদের সতর্ক করে বলেছিলেন, "হে আমার জাতি! তোমরা মাপ ও ওজন পূর্ণ করো এবং মানুষকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিও না।" ৩. খতিবুল আম্বিয়ার দাওয়াত হয...

আইয়ুব নবীর পরীক্ষা, ইসলামের ইতিহাসের ধৈর্যশীল নবী, আইয়ুব (আঃ) এর রোগ থেকে মুক্তি, ধৈর্যের প্রতিদান।

Image
  ধৈর্যের মূর্ত প্রতীক হযরত আইয়ুব (আঃ): কঠিনতম পরীক্ষা ও ঐশ্বরিক আরোগ্যের ইতিহাস পৃথিবীতে ধৈর্যের উদাহরণ দিতে গেলে যার নাম সবার আগে আসে, তিনি হলেন হযরত আইয়ুব (আঃ)। তিনি ছিলেন হযরত ইসহাক (আঃ)-এর প্রপৌত্র। আল্লাহ তাআলা তাঁকে অগাধ সম্পদ, সুঠাম দেহ এবং অনেক সন্তান দিয়ে ধন্য করেছিলেন। কিন্তু তাঁর জীবনের পরবর্তী অধ্যায় ছিল এক কঠিন পরীক্ষার গল্প। ১. সুখের দিন থেকে কঠিন পরীক্ষায় হযরত আইয়ুব (আঃ) প্রথম জীবনে অত্যন্ত সুখী ও ধনী ছিলেন। তাঁর শত শত গবাদি পশু, বিশাল জমিদারি এবং দশজন পুত্রসন্তান ছিল। কিন্তু আল্লাহ যখন তাঁকে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন একের পর এক সব সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল। তাঁর সকল সন্তান এক দুর্ঘটনায় মারা যান। সবশেষে তাঁর সুঠাম শরীরে বাসা বাঁধে এক অতি যন্ত্রণাদায়ক চর্মরোগ। ২. ১৮ বছরের দীর্ঘ সংগ্রাম ও নিঃসঙ্গতা কথিত আছে, আইয়ুব (আঃ) দীর্ঘ ১৮ বছর এই কঠিন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁর শরীর থেকে পচন শুরু হয়েছিল, যার ফলে আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশী এমনকি অনেক অনুসারীও তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল। একমাত্র তাঁর বিশ্বস্ত স্ত্রী বিবি রহিমা তাঁকে ছেড়ে যাননি। তিনি মানুষের বাড়িতে কাজ করে স্বামীর স...

ইউসুফ ও জুলাইখা, মিশরের আজিজ, স্বপ্নের ব্যাখ্যা, ইউসুফ নবীর রূপ, কুরআনের সেরা কাহিনী।

Image
  আহসানুল কাসাস: হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর জীবন ও ধৈর্যের অবিশ্বাস্য বিজয় পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোনো গল্প নেই যা হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর জীবনী থেকে বেশি রোমাঞ্চকর এবং শিক্ষণীয়। হিংসা, ষড়যন্ত্র, দাসত্ব এবং মিথ্যা অপবাদকে জয় করে কীভাবে একজন মানুষ একটি দেশের অধিপতি হতে পারেন, ইউসুফ (আঃ) তার জীবন্ত প্রমাণ। ১. স্বপ্নের সেই শুরু ও ভাইদের ষড়যন্ত্র শৈশবে ইউসুফ (আঃ) একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন—এগারোটি নক্ষত্র, সূর্য এবং চাঁদ তাঁকে সিজদা করছে। পিতা ইয়াকুব (আঃ) বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর পুত্র একদিন মহান হবে। কিন্তু সৎ ভাইদের হিংসা তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। তাঁরা ইউসুফ (আঃ)-কে একটি গভীর কূপে ফেলে দিয়ে পিতাকে বলে যে তাঁকে নেকড়ে খেয়ে ফেলেছে। ২. দাস থেকে রাজপ্রাসাদে: জুলাইখার পরীক্ষা কূপ থেকে একটি কাফেলার মাধ্যমে উদ্ধার হয়ে তিনি মিশরের বাজারে দাস হিসেবে বিক্রি হন। মিশরের অর্থমন্ত্রী (আজিজে মিশর) তাঁকে কিনে নেন। সেখানে বড় হওয়ার পর তাঁর অপূর্ব রূপ দেখে আজিজের স্ত্রী জুলাইখা মোহিত হন। ইউসুফ (আঃ)-কে পাপের পথে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করা হলে তিনি আল্লাহর ভয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে মিথ্যা অপবাদে তাঁকে দীর্ঘ বছর কারাগারে কা...

বনী ইসরাইলের ইতিহাস, হযরত ইয়াকুব ও ইউসুফ (আঃ), সবরে জামিল বা সুন্দর ধৈর্য, ইসরাইল নামের অর্থ।

Image
  বনী ইসরাইলের প্রাণপুরুষ হযরত ইয়াকুব (আঃ): ধৈর্য ও বিশ্বাসের এক অমর ইতিহাস পবিত্র কুরআনের পাতায় যে ক’জন নবীর ধৈর্য ও ত্যাগের কথা বারবার উচ্চারিত হয়েছে, তাঁদের মধ্যে হযরত ইয়াকুব (আঃ) অন্যতম। তিনি ছিলেন হযরত ইসহাক (আঃ)-এর পুত্র এবং হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর পৌত্র। তাঁর জীবন থেকে আমরা পাই 'সবরে জামিল' বা সুন্দর ধৈর্যের এক অনন্য শিক্ষা। ১. জন্ম ও বংশপরিচয় হযরত ইয়াকুব (আঃ) ফিলিস্তিনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন আল্লাহর মনোনীত এক মহান নবী। তাঁর বংশ থেকেই পরবর্তীতে বনী ইসরাইল জাতির উদ্ভব ঘটে। তাঁর বারোজন পুত্রসন্তান ছিল, যাঁদের মধ্য থেকে হযরত ইউসুফ (আঃ) নবুওয়াত লাভ করেছিলেন। ২. 'ইসরাইল' উপাধির রহস্য পবিত্র কুরআনে হযরত ইয়াকুব (আঃ)-কে ‘ইসরাইল’ নামে সম্বোধন করা হয়েছে। হিব্রু ভাষায় 'ইসরা' অর্থ বান্দা বা দাস এবং 'ইল' অর্থ আল্লাহ। অর্থাৎ ইসরাইল নামের অর্থ হলো ‘আল্লাহর বান্দা’। তাঁর এই নামের ওপর ভিত্তি করেই তাঁর বংশধরদের 'বনী ইসরাইল' বলা হয়। ৩. প্রিয় পুত্র ইউসুফ (আঃ) ও বিচ্ছেদের বেদনা হযরত ইয়াকুব (আঃ)-এর জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল তাঁর অতি আদরের পুত্র হযরত ইউসুফ...

বনী ইসরাইলের ইতিহাস, ইব্রাহিম নবীর পুত্র, ইসহাক নবীর বংশধর, ইসলামের ইতিহাস, শাম দেশের নবী।

Image
  বনী ইসরাইলের আদি পুরুষ হযরত ইসহাক (আঃ): এক অলৌকিক জন্মের ইতিহাস ইসলামের ইতিহাসে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর দুই পুত্রই ছিলেন নবী। বড় পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ) যখন মক্কায় আরবের বংশধারা এগিয়ে নিচ্ছিলেন, তখন তাঁর দ্বিতীয় পুত্র হযরত ইসহাক (আঃ) ফিলিস্তিন ও শাম অঞ্চলে তাওহীদের দাওয়াত প্রচার করছিলেন। ১. অলৌকিক সুসংবাদ ও জন্ম হযরত ইসহাক (আঃ)-এর জন্ম ছিল আল্লাহর এক বিশেষ মুজিজা। হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এবং বিবি সারা যখন অত্যন্ত বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হন, তখন ফেরেশতারা তাঁদের কাছে এসে এক জ্ঞানী পুত্রসন্তানের সুসংবাদ দেন। বিবি সারা আশ্চর্যান্বিত হয়ে হেসে ফেলেছিলেন, কারণ সেই বয়সে সন্তান হওয়া ছিল জাগতিক নিয়মের বাইরে। কিন্তু আল্লাহর কুদরতে তিনি গর্ভবতী হন এবং হযরত ইসহাক (আঃ) জন্মগ্রহণ করেন। ২. নবুওয়াত ও চারিত্রিক গুণাবলী আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে হযরত ইসহাক (আঃ)-কে ‘ইমাম’ বা নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ইবাদতগুজার এবং সৎকর্মশীল। তিনি সারা জীবন ফিলিস্তিন ও সিরিয়া অঞ্চলে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করেছেন। তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং প্রজ্ঞা তাঁকে সমসাময়িক সমাজে অত্যন্ত সম্মানিত করেছিল। ৩. বংশ পরম্পর...

জবেহুল্লাহ, যমযম কূপের ইতিহাস, ইসমাইল নবীর কুরবানি, মক্কা বিজয়, কাবার নির্মাণ।

Image
  ধৈর্য ও ত্যাগের প্রতীক হযরত ইসমাইল (আঃ): যমযম ও কাবা নির্মাণের ইতিহাস ইসলামের ইতিহাসে 'জবেহুল্লাহ' বা আল্লাহর রাহে উৎসর্গকৃত হিসেবে পরিচিত মহান নবী হলেন হযরত ইসমাইল (আঃ)। তিনি ছিলেন হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এবং বিবি হাজেরার জ্যেষ্ঠ পুত্র। তাঁর পুরো জীবন ছিল আল্লাহর পরীক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ১. জন্ম ও মরুভূমিতে নির্বাসন হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর বৃদ্ধ বয়সে ইসমাইল (আঃ)-এর জন্ম হয়। আল্লাহর নির্দেশে ইব্রাহিম (আঃ) তাঁর দুগ্ধপোষ্য শিশু ইসমাইল ও স্ত্রী হাজেরাকে মক্কার নির্জন ও জনমানবহীন মরুভূমিতে রেখে আসেন। যেখানে ছিল না কোনো খাবার বা পানি। বিবি হাজেরা যখন ব্যাকুল হয়ে সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে দৌড়াচ্ছিলেন, তখন আল্লাহর কুদরতে শিশু ইসমাইলের পায়ের আঘাতে মাটি ফুঁড়ে বের হয়ে আসে পবিত্র যমযম কুপের ধারা। ২. কুরবানির ঐতিহাসিক পরীক্ষা ইসমাইল (আঃ) যখন কিশোর বয়সে পদার্পণ করেন, তখন ইব্রাহিম (আঃ) স্বপ্নে দেখলেন যে তিনি তাঁর প্রিয় পুত্রকে কুরবানি করছেন। এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে এক কঠিন পরীক্ষা। ইব্রাহিম (আঃ) যখন পুত্রকে স্বপ্নের কথা জানালেন, তখন ধৈর্যশীল পুত্র উত্তর দিয়েছিলেন: "হে আমার পিতা! আপ...

মুসলিম জাতির পিতা, খলিলুল্লাহ, নমরুদের আগুন, ইব্রাহিম নবীর কুরবানি, কাবার ইতিহাস।

Image
  মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ): সত্য ও ত্যাগের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস পৃথিবীর ইতিহাসে একত্ববাদের পতাকাকে সুউচ্চ শিখরে নিয়ে গিয়েছিলেন যে মহান ব্যক্তিত্ব, তিনি হলেন হযরত ইব্রাহিম (আঃ)। আল্লাহ তাআলা তাঁকে 'খলিলুল্লাহ' বা আল্লাহর বন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেছেন। সালেহ (আঃ)-এর পরবর্তী সময়ে যখন পৃথিবী আবার শিরক ও মূর্তিপূজায় নিমজ্জিত হয়েছিল, তখন ইব্রাহিম (আঃ) সত্যের মশাল নিয়ে আবির্ভূত হন। ১. জন্ম ও শৈশব: মূর্তিপূজার অন্ধকারে আলোর দিশারি হযরত ইব্রাহিম (আঃ) বর্তমান ইরাকের বাবেল (Babylon) শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা 'আজর' ছিলেন একজন মূর্তিশিল্পী। যে সমাজে মানুষ নিজ হাতে বানানো মূর্তির পূজা করত, সেখানে ইব্রাহিম (আঃ) শৈশব থেকেই এক আল্লাহর অস্তিত্ব অনুভব করতেন। তিনি চাঁদ, সূর্য ও নক্ষত্র দেখে উপলব্ধি করেছিলেন যে, এসবের একজন মহান সৃষ্টিকর্তা আছেন। ২. নমরুদের সাথে বিতর্ক ও আগুনের পরীক্ষা তৎকালীন সম্রাট নমরুদ নিজেকে ঈশ্বর দাবি করত। ইব্রাহিম (আঃ) যখন তাকে আল্লাহর ইবাদত করার দাওয়াত দিলেন, নমরুদ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ইব্রাহিম (আঃ) কৌশলে তাদের উপাসনালয়ের সব ছোট মূর্তি ভেঙে বড় মূর্তির কাঁধ...

কওমে সামুদ, সামুদ জাতির ধ্বংস, উষ্ট্রী মুজিজা, ইসলামের ইতিহাস, সালেহ নবীর কাহিনী।

Image
  সামুদ জাতির পতন ও হযরত সালেহ (আঃ)-এর অলৌকিক মুজিজা মানব ইতিহাসের পাতায় এমন অনেক জাতি এসেছে যারা নিজেদের অসীম শক্তির অহংকারে আল্লাহকে অস্বীকার করেছিল। হযরত হূদ (আঃ)-এর সময়কার আদ জাতি ধ্বংস হওয়ার পর পৃথিবীতে নতুন এক শক্তির উত্থান ঘটে, যাদের বলা হতো ‘সামুদ’ জাতি। তাদের হেদায়েতের জন্য আল্লাহ তাআলা মনোনীত করেছিলেন মহান নবী হযরত সালেহ (আঃ)-কে। ১. সামুদ জাতির পরিচয় ও ঐশ্বর্য সামুদ জাতি ছিল আরব উপদ্বীপের উত্তর-পশ্চিমে ‘হিজর’ নামক অঞ্চলে বসবাসকারী এক অত্যন্ত দক্ষ জনগোষ্ঠী। তারা পাহাড় কেটে পাথরের ভেতর সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণের কারিগর ছিল। আজকের আধুনিক যুগেও সৌদি আরবের 'মাদাইন সালেহ' এলাকায় সেই পাহাড় কাটার নিদর্শনগুলো তাদের প্রকৌশল বিদ্যার সাক্ষ্য বহন করে। প্রাচুর্য এবং শক্তির অহংকারে তারা সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ২. হযরত সালেহ (আঃ)-এর দাওয়াত আল্লাহ তাআলা সালেহ (আঃ)-কে তাদের মধ্য থেকেই নবী হিসেবে প্রেরণ করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত জ্ঞানী এবং ধৈর্যশীল। তিনি তাঁর জাতিকে মূর্তিপূজা ত্যাগ করে এক আল্লাহর ইবাদত করার আহ্বান জানান। কিন্তু সামুদ জাতির নেতারা তাঁর প্রতি ঈমান না এনে বরং তাঁকে উপহাস করতে...

সোশ্যাল মিডিয়া ও ইসলাম: ডিজিটাল যুগে ঈমান রক্ষার ১০টি সোনালী নিয়ম

Image
  সোশ্যাল মিডিয়া ও ইসলাম: ডিজিটাল যুগে ঈমান রক্ষার ১০টি সোনালী নিয়ম ​একবিংশ শতাব্দীতে আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক বা ইনস্টাগ্রাম—আমরা দিনের একটি বড় অংশ স্ক্রল করে কাটিয়ে দিই। কিন্তু একজন মুমিন হিসেবে আমাদের প্রতিটি সেকেন্ডের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে। এই ডিজিটাল জগত আমাদের জন্য যেমন নেকি অর্জনের বিশাল সুযোগ, তেমনি এটি হতে পারে ঈমান হরণের ফাঁদ। ​আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব কীভাবে ইসলামি মূল্যবোধ বজায় রেখে আপনি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারেন এবং কীভাবে এই প্ল্যাটফর্মগুলোকে আপনার জান্নাতের পথ বানাতে পারেন। ​ ১. নিয়ত বা উদ্দেশ্য ঠিক করা ​আপনি কেন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছেন? কেবল সময় কাটানোর জন্য নাকি ভালো কিছু জানার বা শেখানোর জন্য? রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "নিশ্চয়ই সমস্ত কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।" আপনি যদি দ্বীন প্রচার বা ভালো কথা শেয়ারের নিয়তে এটি ব্যবহার করেন, তবে আপনার প্রতিটি 'শেয়ার' ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে। ​ ২. দৃষ্টির হেফাজত করা (Lowering the Gaze) ​সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করার সময় অনেক সম...

আদ জাতির ধ্বংস, নূহ (আঃ) এর পরের নবী, ইসলামের ইতিহাস, কওমে আদ, হূদ নবীর কাহিনী।

Image
  অভিশপ্ত আদ জাতির ত্রাণকর্তা: হযরত হূদ (আঃ)-এর পূর্ণাঙ্গ জীবনী পৃথিবীর ইতিহাসে নূহ (আঃ)-এর মহাপ্লাবনের পর মানবজাতি আবার নতুন করে গড়ে উঠেছিল। একত্ববাদের সেই পতাকাবাহী কাফেলার পর আল্লাহ তাআলা যে মহান নবীকে প্রেরন করেন, তিনি হলেন হযরত হূদ (আঃ)। তিনি ছিলেন ‘আদ’ জাতির পথপ্রদর্শক। ১. হযরত হূদ (আঃ) এর বংশপরিচয় ও প্রেক্ষাপট হযরত হূদ (আঃ) ছিলেন হযরত নূহ (আঃ)-এর পঞ্চম বা ষষ্ঠ অধঃস্তন পুরুষ। তিনি আরবের ‘আদ’ নামক গোত্রের কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন। আদ জাতি ছিল তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং শারীরিকভাবে সুঠাম এক জনগোষ্ঠী। তাদের ইরাম (Iram) নামক বিশাল শহরটি ছিল স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন, যা কুরআনুল কারিমে ‘স্তম্ভবিশিষ্ট ইরাম’ হিসেবে উল্লিখিত হয়েছে। ২. আদ জাতির বিলাসিতা ও অহংকার আদ জাতি কেবল শক্তিশালীই ছিল না, তারা ছিল অত্যন্ত সম্পদশালী। কিন্তু এই প্রাচুর্য তাদের অহংকারী করে তুলেছিল। তারা আল্লাহকে ভুলে মূর্তিপূজায় লিপ্ত হয় এবং দুর্বলদের ওপর অত্যাচার শুরু করে। তারা বিশ্বাস করত, পৃথিবীতে তাদের চেয়ে শক্তিশালী আর কেউ নেই। তাদের এই দাম্ভিকতার জবাবে আল্লাহ তাআলা হযরত হূদ (আঃ)-কে নবুওয়াত দিয়ে পাঠ...

রিযিকে বরকত পাওয়ার আমল: হালাল উপার্জনে অভাব দূর করার ১০টি ইসলামিক উপায়

Image
  রিযিকে বরকত পাওয়ার আমল: হালাল উপার্জনে অভাব দূর করার ১০টি ইসলামিক উপায় ​রিযিক কেবল টাকা-পয়সা নয়; বরং সুস্বাস্থ্য, নেক সন্তান, মানসিক শান্তি এবং সময়—সবই রিযিকের অন্তর্ভুক্ত। অনেক সময় দেখা যায়, আমাদের উপার্জন অনেক কিন্তু মাসের শেষে হাতে কিছুই থাকে না। এর প্রধান কারণ হলো 'বরকত' বা কল্যাণের অভাব। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, "আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।" (সূরা আত-ত্বালাক: ২-৩) । ​আজকের এই বিস্তারিত প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব কীভাবে সুন্নাহর আলোকে আপনার উপার্জনে বরকত ফিরিয়ে আনতে পারেন। ​ ১. তওবা ও ইস্তেগফার করা ​অভাব ও রিযিক সংকটের অন্যতম বড় কারণ হলো আমাদের গুনাহ। ইস্তেগফার করলে আল্লাহ কেবল গুনাহ মাফ করেন না, বরং আসমান থেকে রহমতের বৃষ্টি ও রিযিকের দরজা খুলে দেন। হযরত নুহ (আ.) তাঁর কওমকে বলেছিলেন, "তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর অজস্র বৃষ্টিধারা পাঠাবেন এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে সমৃদ্ধ করবেন।...