আইয়ুব নবীর পরীক্ষা, ইসলামের ইতিহাসের ধৈর্যশীল নবী, আইয়ুব (আঃ) এর রোগ থেকে মুক্তি, ধৈর্যের প্রতিদান।
ধৈর্যের মূর্ত প্রতীক হযরত আইয়ুব (আঃ): কঠিনতম পরীক্ষা ও ঐশ্বরিক আরোগ্যের ইতিহাস
পৃথিবীতে ধৈর্যের উদাহরণ দিতে গেলে যার নাম সবার আগে আসে, তিনি হলেন হযরত আইয়ুব (আঃ)। তিনি ছিলেন হযরত ইসহাক (আঃ)-এর প্রপৌত্র। আল্লাহ তাআলা তাঁকে অগাধ সম্পদ, সুঠাম দেহ এবং অনেক সন্তান দিয়ে ধন্য করেছিলেন। কিন্তু তাঁর জীবনের পরবর্তী অধ্যায় ছিল এক কঠিন পরীক্ষার গল্প।
১. সুখের দিন থেকে কঠিন পরীক্ষায়
হযরত আইয়ুব (আঃ) প্রথম জীবনে অত্যন্ত সুখী ও ধনী ছিলেন। তাঁর শত শত গবাদি পশু, বিশাল জমিদারি এবং দশজন পুত্রসন্তান ছিল। কিন্তু আল্লাহ যখন তাঁকে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন একের পর এক সব সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল। তাঁর সকল সন্তান এক দুর্ঘটনায় মারা যান। সবশেষে তাঁর সুঠাম শরীরে বাসা বাঁধে এক অতি যন্ত্রণাদায়ক চর্মরোগ।
২. ১৮ বছরের দীর্ঘ সংগ্রাম ও নিঃসঙ্গতা
কথিত আছে, আইয়ুব (আঃ) দীর্ঘ ১৮ বছর এই কঠিন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁর শরীর থেকে পচন শুরু হয়েছিল, যার ফলে আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশী এমনকি অনেক অনুসারীও তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল। একমাত্র তাঁর বিশ্বস্ত স্ত্রী বিবি রহিমা তাঁকে ছেড়ে যাননি। তিনি মানুষের বাড়িতে কাজ করে স্বামীর সেবা ও খাদ্যের যোগান দিতেন।
৩. শয়তানের প্ররোচনা ও অবিচল বিশ্বাস
কঠিন বিপদের সময় শয়তান বারবার আইয়ুব (আঃ)-কে আল্লাহর প্রতি অভিযোগ করার কুমন্ত্রণা দিত। কিন্তু তিনি মুখে সর্বদা আল্লাহর জিকির জারি রাখতেন। তিনি বলতেন, "আল্লাহ যখন আমাকে বছরের পর বছর সুখ দিয়েছেন, তখন কয়েক বছরের দুঃখ কেন আমি হাসিমুখে সহ্য করব না?" তাঁর এই অবিশ্বাস্য ধৈর্য জগতবাসীর জন্য এক শিক্ষা।
৪. অলৌকিক আরোগ্য ও আল্লাহর রহমত
দীর্ঘ পরীক্ষা শেষে যখন আইয়ুব (আঃ) একান্তভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন, তখন আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করলেন। আল্লাহ নির্দেশ দিলেন, "তুমি তোমার পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করো।" মাটিতে আঘাত করার সাথে সাথে সেখানে একটি পানির ঝর্ণা বের হলো। সেই পানিতে গোসল করা ও পান করার পর আইয়ুব (আঃ) পুনরায় পূর্ণ যৌবন ও সুস্থতা ফিরে পেলেন।
কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:
"স্মরণ করো আইয়ুবের কথা, যখন সে তার পালনকর্তাকে আহ্বান করে বলেছিল—আমি কষ্টে পড়েছি, আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।" (সূরা আম্বিয়া: ৮৩)
৫. হারানো সম্পদ ও পরিবার ফিরে পাওয়া
আল্লাহ কেবল আইয়ুব (আঃ)-কে সুস্থই করেননি, বরং তাঁর হারানো সম্পদ বহুগুণ বাড়িয়ে ফেরত দিলেন। বিবি রহিমার কোল পুনরায় সন্তানদের আলোয় ভরে উঠল। ত্যাগের পর আল্লাহর পক্ষ থেকে এই ছিল এক বিশাল পুরস্কার।
উপসংহার
হযরত আইয়ুব (আঃ)-এর জীবন আমাদের শেখায় যে, বিপদ কেবল কষ্টের জন্য নয়, বরং তা আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি পরীক্ষা মাত্র। কেউ যদি বিপদে ধৈর্য হারায়, তবে সে সব হারায়। আর যে ধৈর্যের সাথে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে, আল্লাহ তাকে ইহকাল ও পরকালে সম্মানিত করেন।
নবী-রাসূলদের এমন আরও বিস্তারিত জীবনী ও অজানা তথ্য পড়তে আমাদের ব্লগের সাথেই থাকুন: DeenInfoBD

Comments
Post a Comment