আদ জাতির ধ্বংস, নূহ (আঃ) এর পরের নবী, ইসলামের ইতিহাস, কওমে আদ, হূদ নবীর কাহিনী।
অভিশপ্ত আদ জাতির ত্রাণকর্তা: হযরত হূদ (আঃ)-এর পূর্ণাঙ্গ জীবনী
পৃথিবীর ইতিহাসে নূহ (আঃ)-এর মহাপ্লাবনের পর মানবজাতি আবার নতুন করে গড়ে উঠেছিল। একত্ববাদের সেই পতাকাবাহী কাফেলার পর আল্লাহ তাআলা যে মহান নবীকে প্রেরন করেন, তিনি হলেন হযরত হূদ (আঃ)। তিনি ছিলেন ‘আদ’ জাতির পথপ্রদর্শক।
১. হযরত হূদ (আঃ) এর বংশপরিচয় ও প্রেক্ষাপট
হযরত হূদ (আঃ) ছিলেন হযরত নূহ (আঃ)-এর পঞ্চম বা ষষ্ঠ অধঃস্তন পুরুষ। তিনি আরবের ‘আদ’ নামক গোত্রের কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন। আদ জাতি ছিল তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং শারীরিকভাবে সুঠাম এক জনগোষ্ঠী। তাদের ইরাম (Iram) নামক বিশাল শহরটি ছিল স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন, যা কুরআনুল কারিমে ‘স্তম্ভবিশিষ্ট ইরাম’ হিসেবে উল্লিখিত হয়েছে।
২. আদ জাতির বিলাসিতা ও অহংকার
আদ জাতি কেবল শক্তিশালীই ছিল না, তারা ছিল অত্যন্ত সম্পদশালী। কিন্তু এই প্রাচুর্য তাদের অহংকারী করে তুলেছিল। তারা আল্লাহকে ভুলে মূর্তিপূজায় লিপ্ত হয় এবং দুর্বলদের ওপর অত্যাচার শুরু করে। তারা বিশ্বাস করত, পৃথিবীতে তাদের চেয়ে শক্তিশালী আর কেউ নেই। তাদের এই দাম্ভিকতার জবাবে আল্লাহ তাআলা হযরত হূদ (আঃ)-কে নবুওয়াত দিয়ে পাঠালেন।
৩. হূদ (আঃ)-এর দাওয়াত ও জাতি কর্তৃক প্রত্যাখ্যান
হযরত হূদ (আঃ) অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তাঁর জাতিকে একত্ববাদের দিকে আহ্বান জানান। তিনি বলেছিলেন:
"হে আমার জাতি! তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো ইলাহ নেই।"
কিন্তু আদ জাতি তাঁর কথায় কর্ণপাত করেনি। তারা তাঁকে পাগল এবং মিথ্যাবাদী আখ্যা দেয়। তারা ব্যঙ্গ করে বলত, "তুমি কি আমাদের বাপ-দাদাদের ধর্ম ত্যাগ করতে বলছো?" হূদ (আঃ) ধৈর্যসহকারে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, এই অহংকার তাদের ধ্বংসের কারণ হবে।
৪. অমানবিক আযাব: ঝঞ্ঝাবায়ু
যখন আদ জাতি তাদের অবস্থানে অনড় রইল এবং কুফরি বাড়াতে থাকল, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর বৃষ্টির ধারা বন্ধ করে দিলেন। দীর্ঘদিন খরা চলার পর আকাশে কালো মেঘ দেখা দিলে তারা উল্লাসে ফেটে পড়ল। তারা মনে করেছিল এটি বৃষ্টির মেঘ। কিন্তু সেই মেঘ ছিল আল্লাহর গজব।
কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, সেই বাতাস ছিল অত্যন্ত শীতল ও প্রচণ্ড শক্তিশালী। টানা সাত রাত এবং আট দিন ধরে এই ঘূর্ণিঝড় তাদের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এই ঝড়ে পাহাড়সম শক্তিশালী আদ জাতির লোকেরা খড়কুটার মতো উড়ে গিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। তাদের বিশাল ইরাম নগরী বালুর নিচে তলিয়ে যায়।
৫. মুমিনদের মুক্তি ও শিক্ষা
হযরত হূদ (আঃ) এবং তাঁর ওপর ঈমান আনা মুমিনরা একটি সুরক্ষিত স্থানে আশ্রয় নিয়ে বেঁচে যান। ধ্বংসের পর তাঁরা অন্য এলাকায় চলে যান। এই কাহিনী থেকে আমরা শিক্ষা পাই:
অহংকার পতনের মূল।
আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা জরুরি।
সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকলে আল্লাহ সব পরিস্থিতিতে রক্ষা করেন।
উপসংহার
হযরত হূদ (আঃ)-এর জীবনী আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের পার্থিব শক্তি আল্লাহর শক্তির কাছে কত নগণ্য। ইতিহাস আমাদের শেখায়, যারা সত্যকে অস্বীকার করে এবং অহংকার প্রদর্শন করে, তাদের পরিণতি আদ জাতির মতোই হয়।
নবী-রাসূলদের এমন আরও বিস্তারিত জীবনী ও অজানা তথ্য পড়তে আমাদের ব্লগের সাথেই থাকুন: DeenInfoBD

Comments
Post a Comment