মুসা ও হারুন নবীর কাহিনী, বনী ইসরাইলের ইতিহাস, ইসলামের প্রথম মুবাল্লিগ, হারুন (আঃ) এর অলৌকিক ক্ষমতা।
অবিচল সহযোগী হযরত হারুন (আঃ): মুসা (আঃ)-এর সহযোদ্ধা ও বনী ইসরাইলের মহান নেতার জীবনী
পবিত্র কুরআনে হযরত মুসা (আঃ)-এর আলোচনার সাথে যাঁর নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে, তিনি হলেন তাঁর বড় ভাই হযরত হারুন (আঃ)। তিনি কেবল মুসা (আঃ)-এর ভাই-ই ছিলেন না, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত একজন মহান নবী এবং মুসা (আঃ)-এর দাওয়াতের প্রধান সহায়ক ছিলেন।
১. নবুওয়াত লাভ ও মুসা (আঃ)-এর দোয়া
হযরত মুসা (আঃ) যখন তূর পাহাড়ে নবুওয়াত লাভ করেন এবং তাঁকে ফেরাউনের কাছে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, তখন তিনি আল্লাহর কাছে একটি বিশেষ দোয়া করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "হে আমার পালনকর্তা! আমার ভাই হারুনকে আমার সহযোগী করে দিন, কারণ সে আমার চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্টভাষী।" আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন এবং হারুন (আঃ)-কেও নবুওয়াত দান করেন।
২. ফেরাউনের দরবারে সত্যের ঘোষণা
ফেরাউন ছিল সমসাময়িক বিশ্বের সবচেয়ে প্রতাপশালী ও জালিম শাসক। মুসা (আঃ) এবং হারুন (আঃ) একত্রে ফেরাউনের দরবারে গিয়ে নির্ভীক চিত্তে এক আল্লাহর দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছিলেন। হারুন (আঃ)-এর মিষ্টভাষিতা এবং চমৎকার বাচনভঙ্গি বনী ইসরাইল ও সাধারণ মানুষের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
৩. বনী ইসরাইলের অভিভাবকত্ব
মুসা (আঃ) যখন আল্লাহর সাথে কথা বলার জন্য তূর পাহাড়ে ৪০ দিনের জন্য গিয়েছিলেন, তখন তিনি বনী ইসরাইল জাতির দায়িত্ব হারুন (আঃ)-এর কাঁধে দিয়ে যান। সেই সময়ে সামেরী নামক এক জাদুকর একটি সোনার বাছুর তৈরি করে মানুষকে মূর্তিপূজার দিকে ধাবিত করে। হারুন (আঃ) সাধ্যমতো তাদের বাধা দিয়েছিলেন এবং সত্যের ওপর অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
৪. চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও সহনশীলতা
হযরত হারুন (আঃ) ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও নম্র স্বভাবের মানুষ। বনী ইসরাইলের মতো অবাধ্য এবং জেদি জাতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে তাঁকে অসীম ধৈর্য ধারণ করতে হয়েছিল। তিনি কখনোই ক্রোধের বশবর্তী হতেন না, বরং ভালোবাসা ও প্রজ্ঞা দিয়ে মানুষের ভুল সংশোধন করার চেষ্টা করতেন।
৫. মৃত্যু ও পবিত্র সমাধি
হযরত হারুন (আঃ) হযরত মুসা (আঃ)-এর জীবদ্দশাতেই ইন্তেকাল করেন। কথিত আছে, তাঁরা দুই ভাই একসাথে সিনাই মরুভূমির এক পাহাড়ে গিয়েছিলেন, সেখানেই হারুন (আঃ)-এর মৃত্যু হয়। মুসা (আঃ) একাই তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেন। জর্ডানের 'পেত্রা' শহরের কাছে একটি পাহাড়ের চূড়ায় তাঁর সমাধি রয়েছে বলে মনে করা হয়, যা আজ ‘জাবালে হারুন’ নামে পরিচিত।
উপসংহার
হযরত হারুন (আঃ)-এর জীবনী আমাদের শিক্ষা দেয় যে, মহৎ কাজের জন্য একজন বিশ্বস্ত সহযোগীর প্রয়োজন কতটা অপরিসীম। তিনি ছিলেন আনুগত্য ও ভ্রাতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভাইয়ে-ভাইয়ে যে সুসম্পর্ক থাকা উচিত, হারুন (আঃ) ও মুসা (আঃ)-এর জীবন তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।
নবী-রাসূলদের এমন আরও বিস্তারিত জীবনী ও অজানা তথ্য পড়তে আমাদের ব্লগের সাথেই থাকুন: DeenInfoBD

Comments
Post a Comment