বার্ধক্যে সন্তান লাভ, হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) এর পিতা, মারয়াম (আঃ) এর অভিভাবক, ইসলামের ইতিহাস।
নিভৃতচারী ইবাদতগুজার হযরত যাকারিয়া (আঃ): বার্ধক্যে সন্তান লাভ ও ধৈর্যের মহিমা
বনী ইসরাইল বংশের অন্যতম সম্মানিত নবী ছিলেন হযরত যাকারিয়া (আঃ)। তিনি ছিলেন হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর বংশধর এবং বাইতুল মুকাদ্দাসের প্রধান পুরোহিত ও সেবক। তাঁর জীবন আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা রাখলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।
১. মারয়াম (আঃ)-এর অভিভাবকত্ব ও অলৌকিক রিজিক
হযরত যাকারিয়া (আঃ) ছিলেন হযরত ঈসা (আঃ)-এর মা বিবি মারয়ামের খালু এবং অভিভাবক। মারয়াম (আঃ) যখন বাইতুল মুকাদ্দাসের একটি নির্জন কক্ষে ইবাদতে মগ্ন থাকতেন, যাকারিয়া (আঃ) তাঁর দেখাশোনা করতেন। তিনি অবাক হয়ে লক্ষ্য করতেন যে, শীতকালে মারয়ামের কাছে গ্রীষ্মকালীন ফল এবং গ্রীষ্মকালে শীতকালীন ফল রয়েছে। তিনি যখন জিজ্ঞেস করতেন, "এসব কোথা থেকে এল?" মারয়াম উত্তর দিতেন, "এসব আল্লাহর পক্ষ থেকে।" এই ঘটনা যাকারিয়া (আঃ)-এর মনে আল্লাহর অসীম কুদরতের প্রতি বিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।
২. বার্ধক্যে সন্তানের জন্য আকুল প্রার্থনা
যাকারিয়া (আঃ) দীর্ঘকাল নিঃসন্তান ছিলেন। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী উভয়েই অতি বৃদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। মারয়ামের কাছে অলৌকিক রিজিক দেখে তাঁর মনে আশা জাগল যে, আল্লাহ চাইলে এই বৃদ্ধ বয়সেও তাঁকে সন্তান দিতে পারেন। তিনি নির্জনে আল্লাহর কাছে অত্যন্ত বিনীতভাবে দোয়া করলেন, যা পবিত্র কুরআনের সূরা মারয়ামে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, "হে আমার পালনকর্তা! আমার হাড়গুলো দুর্বল হয়ে গেছে এবং বার্ধক্যে মাথা সাদা হয়ে গেছে... তবুও আমি আপনার কাছে দোয়া করে কখনো বঞ্চিত হইনি।"
৩. হযরত ইয়াহইয়া (আঃ)-এর সুসংবাদ
আল্লাহ তাআলা যাকারিয়া (আঃ)-এর দোয়া কবুল করলেন। ফেরেশতারা এসে তাঁকে সুসংবাদ দিলেন যে, আল্লাহ তাঁকে একটি পুত্র সন্তান দান করবেন, যার নাম হবে 'ইয়াহইয়া'। এই খুশির সংবাদে যাকারিয়া (আঃ) বিস্ময় প্রকাশ করলে আল্লাহ তাঁকে নিদর্শন স্বরূপ তিন দিন কথা বলতে নিষেধ করেন। এরপর অলৌকিকভাবে বৃদ্ধ বয়সে তাঁর ঘরে নবী ইয়াহইয়া (আঃ)-এর জন্ম হয়।
৪. পেশা ও জীবিকা নির্বাহ
হযরত যাকারিয়া (আঃ) একজন নবী হওয়া সত্ত্বেও নিজের হাতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ ছুতার বা কাঠমিস্ত্রি। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয় যে, হালাল উপার্জনের জন্য শ্রম দেওয়া নবীদের সুন্নত। তিনি সারাদিন পরিশ্রম করতেন এবং বাকি সময় বাইতুল মুকাদ্দাসে ইবাদত ও দ্বীন প্রচারে ব্যয় করতেন।
৫. শাহাদাত ও ত্যাগের ইতিহাস
যাকারিয়া (আঃ)-এর শেষ জীবন ছিল অত্যন্ত করুণ ও বীরত্বপূর্ণ। তৎকালীন জালিম বাদশাহ এবং অবাধ্য বনী ইসরাইলরা তাঁর এবং তাঁর পুত্র ইয়াহইয়া (আঃ)-এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। ইতিহাসের বর্ণনা অনুযায়ী, সত্য প্রচার করতে গিয়ে তিনি চরম নির্যাতনের শিকার হন এবং শেষ পর্যন্ত আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ কিয়ামত পর্যন্ত সত্যপন্থীদের জন্য এক বিশাল আদর্শ হয়ে থাকবে।
উপসংহার
হযরত যাকারিয়া (আঃ)-এর জীবনী থেকে আমরা শিখি যে, দোয়ার কোনো বয়স নেই এবং আল্লাহর ভাণ্ডারে কোনো অভাব নেই। তিনি যেমন একজন আদর্শ নবী ছিলেন, তেমনি ছিলেন একজন পরিশ্রমী কর্মজীবী ও স্নেহময় অভিভাবক।
👉 নবী-রাসূলদের এমন আরও বিস্তারিত জীবনী ও অজানা তথ্য পড়তে আমাদের ব্লগের সাথেই থাকুন: DeenInfoBD
.png)
Comments
Post a Comment