বিশ্বনবীর সীরাত, মহানবীর অলৌকিক ঘটনা, মক্কা থেকে মদিনা হিজরত, ইসলামের শেষ নবী, রাসুলুল্লাহর আদর্শ।
মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (সাঃ): জন্ম থেকে নবুওয়াত ও এক কালজয়ী বিপ্লবের ইতিহাস
পৃথিবীর ইতিহাসে যদি এমন একজন মানুষের নাম নিতে হয়, যিনি ধর্ম, রাজনীতি, সমাজনীতি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সমানভাবে সফল এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রভাবশালী ব্যক্তি, তবে তিনি হলেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। তাঁর আগমন ছিল অন্ধকার যুগে আলোর দিশারী।
১. জন্ম ও শৈশবের পবিত্রতা
আরবের অন্ধকার যুগে (আইয়ামে জাহেলিয়াত) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ই রবিউল আউয়াল মক্কার কুরাইশ বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের আগেই তিনি তাঁর পিতাকে হারান এবং মাত্র ছয় বছর বয়সে মা আমেনাকে হারান। ইয়াতিম অবস্থায় বেড়ে ওঠা মুহাম্মদ (সাঃ) ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অত্যন্ত সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত, যার কারণে আরবরা তাঁকে 'আল-আমিন' বা বিশ্বাসী উপাধিতে ভূষিত করেছিল।
২. নবুওয়াত লাভ ও ইসলামের দাওয়াত
৪০ বছর বয়সে হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় ফেরেশতা জিবরাঈল (আঃ)-এর মাধ্যমে তিনি আল্লাহর প্রথম ওহী লাভ করেন। শুরু হয় নবুওয়াতের মহান দায়িত্ব। তিনি মক্কার পৌত্তলিকদের মাঝে এক আল্লাহর ইবাদতের ডাক দেন। কিন্তু তৎকালীন কুরাইশ নেতারা তাঁর ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন শুরু করে। তিনি ও তাঁর সাহাবীরা বছরের পর বছর ক্ষুধা ও লাঞ্ছনা সহ্য করেও সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হননি।
৩. মে'রাজ ও ঐতিহাসিক হিজরত
নবুওয়াতের একাদশ বছরে তিনি আল্লাহর দিদার লাভের জন্য 'মে'রাজ' বা ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করেন। মক্কায় নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে আল্লাহর নির্দেশে তিনি ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় হিজরত করেন। এই হিজরত থেকেই ইসলামি বর্ষপঞ্জি বা হিজরি সনের গণনা শুরু হয়। মদিনায় গিয়ে তিনি একটি আদর্শ রাষ্ট্র গঠন করেন এবং 'মদিনার সনদ' এর মাধ্যমে সর্বধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করেন।
৪. মুজিজা ও চারিত্রিক মাধুর্য
আল্লাহ তাআলা তাঁকে অসংখ্য মুজিজা দান করেছিলেন। তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো 'পবিত্র কুরআন'। এছাড়াও আঙুলের ইশারায় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করা, তাঁর হাতের স্পর্শে সামান্য খাদ্যে শত শত মানুষের পেট ভরার মতো অলৌকিক ঘটনা তাঁর জীবনে ঘটেছে। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় মুজিজা ছিল তাঁর চরিত্র। তিনি চরম শত্রুকেও ক্ষমা করে দিতেন এবং দয়া ও বিনয় দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করতেন।
৫. মক্কা বিজয় ও বিদায় হজের ভাষণ
হিজরতের অষ্টম বছরে তিনি কোনো রক্তপাত ছাড়াই মক্কা বিজয় করেন। তিনি মক্কার সেই সব শত্রুদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন, যারা তাঁকে এক সময় দেশছাড়া করেছিল। দশম হিজরিতে তিনি তাঁর শেষ হজ বা বিদায় হজ সম্পাদন করেন এবং আরাফাতের ময়দানে লাখো মানুষের সামনে মানবতার এক ঐতিহাসিক সনদ পেশ করেন। ৬৩ বছর বয়সে এই মহামানব রফীকে আলার সাথে মিলিত হন (ইন্তেকাল করেন)।
উপসংহার
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবনী কোনো সাধারণ মানুষের গল্প নয়, এটি একটি জীবন্ত দর্শন। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর আদর্শ আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক। তাঁর দেখানো পথেই নিহিত রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের প্রকৃত শান্তি।
.png)
Comments
Post a Comment