ঈসা নবীর মুজিজা, বিবি মারয়ামের কাহিনী, কুমারী মাতার সন্তান, আসমানে তুলে নেওয়ার ঘটনা, ইসলামের ইতিহাস।

 

হযরত ঈসা (আঃ) এর জীবনী

পবিত্র রূহুল্লাহ হযরত ঈসা (আঃ): অলৌকিক জন্ম, বিস্ময়কর মুজিজা ও আসমানে আরোহণের ইতিহাস

ইসলামের ইতিহাসে যে ক’জন নবীকে আল্লাহ তাআলা অসামান্য সব মুজিজা বা অলৌকিক ক্ষমতা দিয়ে পাঠিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে হযরত ঈসা (আঃ) অন্যতম। তিনি ছিলেন আল্লাহর এক বিশেষ নিদর্শন, যাঁর কোনো পিতা ছিল না।

১. অলৌকিক জন্ম ও বিবি মারয়াম (আঃ)

হযরত ঈসা (আঃ)-এর জন্ম ছিল পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিস্ময়। তাঁর মা বিবি মারয়াম ছিলেন অত্যন্ত পর্দানশীন এবং ইবাদতগুজার নারী। আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতা জিবরাঈল (আঃ) তাঁর কাছে এসে পবিত্র সন্তানের সুসংবাদ দেন। কোনো পুরুষ স্পর্শ ছাড়াই আল্লাহর কুদরতে তিনি গর্ভবতী হন। লোকলজ্জার ভয়ে তিনি যখন লোকালয় থেকে দূরে সরে যান, তখন এক খেজুর গাছের নিচে ঈসা (আঃ) জন্মগ্রহণ করেন।

২. দোলনায় থাকা অবস্থায় কথা বলা

যখন বিবি মারয়াম নবজাতক শিশুকে নিয়ে লোকালয়ে ফিরলেন, তখন মানুষ তাঁকে নিয়ে নানা কটু কথা বলতে শুরু করল। তখন আল্লাহর হুকুমে দোলনায় থাকা শিশু ঈসা (আঃ) কথা বলে উঠলেন। তিনি ঘোষণা করলেন, "আমি আল্লাহর বান্দা, তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং নবী করেছেন।" এই অলৌকিক ঘটনা দেখে বনী ইসরাইলরা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।

৩. মৃতকে জীবিত করা ও অন্যান্য মুজিজা

হযরত ঈসা (আঃ)-কে আল্লাহ তাআলা এমন কিছু ক্ষমতা দিয়েছিলেন যা অন্য কাউকেও দেওয়া হয়নি:

  • তিনি মাটির পাখি বানিয়ে তাতে ফু দিলে তা আল্লাহর হুকুমে জীবন্ত হয়ে উড়ে যেত।

  • তিনি জন্মগত অন্ধ ও কুষ্ঠ রোগীদের হাত বুলিয়ে সুস্থ করে দিতেন।

  • সবচেয়ে বড় মুজিজা ছিল, তিনি আল্লাহর অনুমতি নিয়ে মৃত মানুষকে পুনরায় জীবিত করে তুলতেন।

  • মানুষ ঘরে কী খাবার খেয়েছে বা কী জমিয়ে রেখেছে, তাও তিনি বলে দিতে পারতেন।

৪. ইনজিল কিতাব ও হাওয়ারীগণ

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর পবিত্র আসমানি কিতাব 'ইনজিল' নাজিল করেন। তিনি বনী ইসরাইলকে এক আল্লাহর ইবাদত করার এবং পরবর্তী নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আগমনের সুসংবাদ দিতেন। তাঁর একনিষ্ঠ ১২ জন শিষ্য বা অনুসারী ছিলেন, যাঁদের 'হাওয়ারী' বলা হয়। তাঁরা ইসলামের প্রচারে ঈসা (আঃ)-কে সব সময় সাহায্য করতেন।

👉 নবী-রাসূলদের এমন আরও বিস্তারিত জীবনী ও অজানা তথ্য পড়তে আমাদের ব্লগের সাথেই থাকুন: DeenInfoBD

৫. আসমানে তুলে নেওয়া ও কিয়ামতের আগে প্রত্যাবর্তন

বনী ইসরাইলের একদল ষড়যন্ত্রকারী যখন ঈসা (আঃ)-কে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করার চেষ্টা করে, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর কুদরতে ঈসা (আঃ)-কে জীবিত অবস্থায় আসমানে তুলে নেন। পবিত্র কুরআন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাঁকে হত্যা করা হয়নি এবং ক্রুশবিদ্ধও করা হয়নি। কিয়ামতের আগে তিনি পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসবেন, দাজ্জালকে হত্যা করবেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন।

উপসংহার

হযরত ঈসা (আঃ)-এর জীবনী আমাদের আল্লাহর অসীম ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে শেখায়। তিনি ছিলেন দয়া ও করুণার মূর্ত প্রতীক। আজ আমরা যারা শেষ নবীর উম্মত, আমাদের জন্যও ঈসা (আঃ)-এর চারিত্রিক গুণাবলী এবং তাঁর আদর্শ জানা অত্যন্ত জরুরি।

Comments

Popular posts from this blog

​দ্বীন ইনফো (Deen Info) ব্লগে আপনাকে স্বাগতম

রোজা ভঙ্গের কারণ, মাকরূহ ও নিষিদ্ধ কাজসমূহের পূর্ণাঙ্গ তালিকা | Ramadan Guide 2026

ব্যবসায় বরকত লাভের ৫টি সুন্নতি উপায় এবং ইসলামের দৃষ্টিতে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব