হযরত শীস (আঃ) এর জীবনী: আদম (আঃ) এর উত্তরাধিকারী ও মানব সভ্যতার বিকাশ | Prophet Sheeth (AS) Biography
ভূমিকা: আদম (আঃ) এর যোগ্য উত্তরসূরি
মানবজাতির আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) এবং মা হাওয়া (আঃ) যখন পৃথিবীতে বংশবিস্তার শুরু করেন, তখন তাঁদের সন্তানদের মধ্যে প্রথম বড় বিপর্যয় ছিল হাবিল ও কাবিলের ঘটনা। হাবিলের মৃত্যুর পর আদম (আঃ) অত্যন্ত শোকাহত ছিলেন। সেই শোক দূর করতে এবং পৃথিবীতে আল্লাহর দ্বীন কায়েম রাখতে আল্লাহ তাআলা তাঁদের এক বিশেষ পুত্র সন্তান দান করেন, যার নাম শীস (আঃ)। হিব্রু ভাষায় শীস শব্দের অর্থ হলো 'আল্লাহর দান'।
১. হযরত শীস (আঃ) এর অলৌকিক জন্ম
হাবিলের শাহাদাতের প্রায় ১০০ বছর পর শীস (আঃ) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন আদম (আঃ) এর অন্যান্য সন্তানদের তুলনায় অনেক বেশি পরহেজগার, শান্ত এবং জ্ঞানী। আদম (আঃ) তাঁর মৃত্যুর আগে বুঝতে পেরেছিলেন যে, শীস-ই হবেন তাঁর পরবর্তী নবী এবং মানুষের পথপ্রদর্শক।
২. নবুওয়াত ও সহীফা লাভ
হযরত শীস (আঃ) কেবল একজন নবীই ছিলেন না, বরং তাঁর ওপর আসমানি কিতাব বা সহীফা নাজিল হয়েছিল। নির্ভরযোগ্য বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর ৫০টি সহীফা নাজিল করেছিলেন। এই সহীফাগুলোতে আল্লাহর ইবাদত, জীবন বিধান এবং আখলাক সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা ছিল।
৩. মানব সভ্যতার বিকাশে তাঁর অবদান
অনেকেই জানেন না যে, বর্তমান পৃথিবীর অনেক মৌলিক আবিষ্কারের সূচনা হয়েছিল শীস (আঃ) এর হাত ধরে।
- প্রথম শহর নির্মাণ: তিনি পৃথিবীতে সুশৃঙ্খলভাবে বসবাসের জন্য শহর বা জনপদ তৈরির সূচনা করেন।
- হিসাব বিজ্ঞান ও গণিত: সময় গণনা এবং হিসাব রাখার প্রাথমিক পদ্ধতি তিনি প্রবর্তন করেন।
- শিল্প ও বুনন: পোশাক তৈরির জন্য সুতা কাটা এবং বুনন শিল্পের শিক্ষা তিনি মানুষকে দিয়েছিলেন।
৪. কাবিলের বংশধরদের সাথে সংঘাত ও হেদায়েত
সেই সময়ে আদম (আঃ) এর বংশধরেরা দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। একদল ছিল শীস (আঃ) এর অনুসারী যারা পাহাড়ে বসবাস করত, আর অন্যদল ছিল কাবিলের বংশধর যারা সমতলে পাপাচার ও অবাধ্যতায় লিপ্ত ছিল। শীস (আঃ) তাঁর জাতিকে কাবিলের বংশধরদের সাথে মেলামেশা করতে নিষেধ করেছিলেন যাতে তারা ঈমান রক্ষা করতে পারে। কিন্তু শয়তান বাদ্যযন্ত্র এবং বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা শুরু করে।
৫. কাবা শরীফ ও ইবাদত
হযরত শীস (আঃ) কাবা শরীফ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আদম (আঃ) এর শেখানো পদ্ধতিতে হজ পালন করতেন এবং মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে ডাকতেন। তাঁর সময়ে মানুষ অত্যন্ত শান্তি ও শৃঙ্খলার সাথে বসবাস করত।
৬. দীর্ঘ জীবন ও মৃত্যু
হযরত শীস (আঃ) দীর্ঘ ৯১২ বছর জীবিত ছিলেন (বর্ণনাভেদে কিছুটা কম-বেশি হতে পারে)। তিনি তাঁর মৃত্যুর আগে তাঁর পুত্র আনূশ-কে অসিয়ত করে যান এবং দ্বীনের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। তাঁকে মক্কার জাবালে আবু কুবাইস পাহাড়ে আদম (আঃ) এর পাশেই দাফন করা হয় বলে অনেক ইতিহাসে উল্লেখ আছে।
৭. কেন শীস (আঃ) এর জীবনী আমাদের পড়া উচিত?
- ধৈর্যের শিক্ষা: হাবিলের শোক কাটিয়ে আদম (আঃ) যেভাবে শীস (আঃ)-কে বড় করেছিলেন, তা আমাদের ধৈর্য শেখায়।
- সভ্যতা ও দ্বীন: ইসলাম কেবল ইবাদত নয়, বরং জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সভ্যতার ধর্ম—তা শীস (আঃ) এর জীবন থেকে প্রমাণিত।
- একত্ববাদ: সকল নবীই একই বার্তা নিয়ে এসেছিলেন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই।
উপসংহার
হযরত শীস (আঃ) ছিলেন মানব ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণের নবী। তিনি অন্ধকার ও বিশৃঙ্খলার মাঝে আলোর প্রদীপ জ্বালিয়েছিলেন। তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদেরও উচিত আধুনিক সভ্যতার মাঝে নিজেদের ঈমান ও আমল ঠিক রাখা।
ইসলামের সকল নবী-রাসূলদের অজানা ইতিহাস জানতে নিয়মিত ভিজিট করুন: DeenInfoBD

Comments
Post a Comment